103
সূরা 103
মক্কী
3 আয়াত
আছর
সময় · The Declining Day, Epoch
العصر
بِسۡمِ اللّٰهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ
وَالۡعَصۡرِ ۙ
وَالۡعَصۡرِ
শপথ মহাকালের
বাংলা অনুবাদ
সময়ের কসম,
১। মহাকালের শপথ। [1][1] ‘মহাকাল’ বলতে দিবারাত্রির আবর্তন-বিবর্তনকে বুঝানো হয়েছে। রাত্রি উপনীত হলে অন্ধকার ছেয়ে যায়। আর দিন প্রকাশ পেতেই সমস্ত জিনিস উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এ ছাড়া রাত কখনো লম্বা আর দিন ছোট, আবার দিন কখনো লম্বা আর রাত ছোট হয়ে থাকে। এই দিবারাত্রি অতিবাহিত হওয়ার নামই হল কাল, যুগ বা সময়; যা আল্লাহর কুদরত (শক্তি) ও কারিগরি ক্ষমতা প্রমাণ করে। আর এ জন্যই তিনি কালের কসম খেয়েছেন। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, আল্লাহ পাক নিজ সৃষ্টির যে কোন বস্তুর কসম খেতে পারেন। কিন্তু মানুষের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোর নামে কসম খাওয়া বৈধ নয়।(অনেকের মতে العَصر মানে আসরের সময় বা নামায। বলা বাহুল্য মহান সৃষ্টিকর্তা সেই জিনিসেরই কসম খেয়ে থাকেন, যার বড় গুরুত্ব আছে। - সম্পাদক)তাফসীরে আহসানুল বায়ান
اِنَّ الۡاِنۡسَانَ لَفِیۡ خُسۡرٍ ۙ
اِنَّ
নিশ্চয়ই
الۡاِنۡسَانَ
মানুষ
لَفِیۡ
অবশ্যই মধ্যে
خُسۡرٍ
ক্ষতির
বাংলা অনুবাদ
নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিপতিত।
২। মানুষ অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত। [1][1] এটি হল কসমের জওয়াব। মানুষের ক্ষতি ও ধ্বংস সুস্পষ্ট। যেহেতু যতক্ষণ সে জীবিত থাকে ততক্ষণ তার দিনরাত মেহনত ও পরিশ্রমের সাথে অতিবাহিত হয়। অতঃপর সে যখন মৃত্যু বরণ করে তখনও তার আরাম ও শান্তি নসীব হয় না। বরং সে জাহান্নামের ইন্ধনে পরিণত হয়।তাফসীরে আহসানুল বায়ান
اِلَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَتَوَاصَوۡا بِالۡحَقِّ ۬ۙ وَتَوَاصَوۡا بِالصَّبۡرِ ٪
اِلَّا
(তাদের) ছাড়া
الَّذِیۡنَ
যারা
اٰمَنُوۡا
ঈমান এনেছে
وَعَمِلُوا
এবং করেছে
الصّٰلِحٰتِ
সৎকর্মের
وَتَوَاصَوۡا
এবং পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে
بِالۡحَقِّ
সত্যের
۬ۙ
ও পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে
وَتَوَاصَوۡا
ধৈর্যের
বাংলা অনুবাদ
তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।
৩। কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে[1] এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দেয়। [2] আর উপদেশ দেয় ধৈর্য ধারণের। [3][1] তবে ক্ষতি হতে সেই ব্যক্তিরা নিরাপত্তা লাভ করবে, যারা ঈমান এনে নেক আমল করবে। কেননা, তার পার্থিব জীবন যেমনভাবেই অতিবাহিত হোক না কেন, মৃত্যুর পর সে চিরস্থায়ী নিয়ামত এবং জান্নাতের চিরসুখ লাভ করে ধন্য হবে। পরবর্তীতে মু’মিনদের আরো কিছু গুণ বর্ণনা করা হয়েছে।[2] অর্থাৎ, তারা একে অপরকে আল্লাহ তাআলার শরীয়তের আনুগত্য করার এবং নিষিদ্ধ বস্তু এবং পাপাচার হতে দূরে থাকার উপদেশ দেয়।[3] অর্থাৎ, মসীবত ও দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য, শরীয়তের হুকুম-আহকাম ও ফরযসমূহ পালন করতে ধৈর্য, পাপাচার বর্জন করতে ধৈর্য, কামনা-বাসনা ও কুপ্রবৃত্তিকে দমন করতে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়। যদিও ধৈর্যধারণের উপদেশ সত্যের উপদেশেরই অন্তর্ভুক্ত, তবুও তা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাতে ধৈর্যধারণ ও তার উপদেশের মর্যাদা, মাহাত্ম্য এবং সুচরিত্রতায় তার পৃথক বৈশিষ্ট্য থাকার কথা সুস্পষ্ট হয়ে যায়।তাফসীরে আহসানুল বায়ান