ক্যাটাগরি সমূহ

সালাত

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ

1

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১

অংশ #1
اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ

উচ্চারণ আস্তাগফিরুল্লা-হ
বাংলা অনুবাদ আমি আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

শব্দার্থ (Word by Word)

اَسْتَغْفِرُ আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি
اللّٰهَ আল্লাহর নিকট

অংশ #2
اَللّٰهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা আনতাস্ সালা-মু ওয়া মিনকাস্ সালা-মু তাবা-রক্তা ইয়া যালজালা-লি ওয়াল-ইকরা-ম
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ! আপনি শান্তিময়। আপনার নিকট থেকেই শান্তি বর্ষিত হয়। আপনি বরকতময়, হে মহিমাময় ও সম্মানের অধিকারী!

শব্দার্থ (Word by Word)

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ
اَنْتَ আপনি
السَّلَامُ، শান্তিময়
وَمِنْكَ এবং আপনার নিকট থেকে বর্ষিত হয়
السَّلَامُ، শান্তি
تَبَارَكْتَ আপনি বরকতময়
يَا হে
ذَا অধিকারী
الْجَلَالِ মহিমাময়
وَالْاِكْرَامِ ও সম্মানের
মুসলিম ১/৪১৪, নং ৫৯১
10

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১০

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَلَا نَعْبُدُ اِلَّاۤ اِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاۤءُ الْحَسَنُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ

উচ্চারণ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া‘হ্দাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল ‘হামদু, ওয়া হুআ ‘আলা কুল্লি শাইইন ক্বাদীর। লা- ‘হাওলা ওয়ালা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ, লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালা- না‘্অ্বুদু ইল্লা- ইইয়া-হু। লাহুন নি‘অ্মাতু, ওয়া লাহুল ফাদ্ব্লু, ওয়ালাহুস সানা-উল ‘হাসান। লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু মুখলিসীনা লাহুদ্দীন, ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর দ্বারা ও আল্লাহর মাধ্যম ছাড়া কোনো অবলম্বন নেই এবং কোনো ক্ষমতা নেই। আমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করি না। নিয়ামত তাঁরই, দয়া তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। আমাদের দ্বীন বিশুদ্ধভাবে শুধুমাত্র তাঁরই জন্য, এতে যদিও কাফিরগণ অসন্তুষ্ট হয়।
আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) নিজে সর্বদা প্রত্যেক সালাতের সালামের পরেই এ যিকরটি পাঠ করতেন এবং বলতেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যেক সালাতের পরে এ যিকরগুলো বলতেন।“
মুসলিম (৫-কিতাবুল মাসাজিদ, ২৬-বাব ইসতিহবাবিয যিকর) ১/৪১৫-৪১৬ (ভারতীয় ১/১১৮); রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০০
11

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১১

رَبِّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ (تَجْمَعُ) عِبَادَكَ

উচ্চারণ রাব্বি ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আসু ইবা-দাকা।
বাংলা অনুবাদ হে আমার প্রভু, আমাকে রক্ষা করুন আপনার শাস্তি থেকে যেদিন আপনি পুনরুত্থিত করবেন আপনার বান্দাগণকে।
বারা ইবনু আযিব (রা) বলেন :
“আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (স)-এর পিছনে সালাত পড়তাম তখন তাঁর ডান দিকে দাঁড়াতে পছন্দ করতাম। তিনি সালাত শেষে আমাদের দিকে মুখ করে বসতেন। আমি শুনলাম তিনি সালাত শেষে উক্ত দু‘আটি বললেন।”
[১]মুসলিম(৬-কিতাব সালাতিল মুসাফিরীন,৮-বাব ইসতিহবাব ইয়ামিনীল) ১/৪৯২ নং ৭০৯ (ভা ১/২৪৭); সহীহ ইবনু খুযাইমা ৩/২৮,২৯,ইবনুল আসীর,জামিউল উসূল ৪/২২৮; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৪
12

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১২

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল কুফ্রি ওয়াল ফাকরি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাব্রি।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রর্থনা করছি কুফরি থেকে ও দারিদ্র্য থেকে এবং আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
আবু বাকরা (রা)-এর ছেলে বলেন, আমার পিতা সালাতের পরে এ দু‘আটি পাঠ করতেন এবং তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) এ দু‘আটি সালাতের পরে পাঠ করতেন, কাজেই তুমি এ দু‘আটি নিয়মিত পড়বে। হাদীসটি সহীহ।
[১]নাসাঈ(কিতাবুস সাহবি,বাবুত তাআওউয ফি দুরুরিস সালাত) ২/৮৩;মুসনাদ আহমাদ ৫/৪৪,ইবন খুযাইমা ১/৩৬৭;মুসতাদরাক হাকিম ১/৩৮৩,ইবনুল আসীর,জামিউল উসূল ৪/২২৯-২৩০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৫
13

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৩

اَللّٰهُمَّ اَعِنِّيْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, আ‘ইননী ‘আলা- যিক্রিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবা-দাতিকা।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আপনার যিকর করতে, শুকর করতে এবং আপনার ইবাদত সুন্দরভাবে করতে তাওফীক ও ক্ষমতা প্রদান করুন।
মু’আয (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) আমার হাত ধরে বলেন, “মু’আয, আমি তোমাকে ভালবাসি। ... মু’আয, আমি তোমাকে ওসীয়ত করছি, প্রত্যেক সালাতের পরে এ দু‘আটি বলা কখনো বাদ দিবে না।” হাদীসটি সহীহ।
[১]আবু দাঊদ(কিতাবুস সালাত,বাবুল ফিল ইস্তিগফার) ২/৮৭,নং ১৫২২ (ভা ১/২১৩);মুসতাদরাক হাকিম ১/৪০৭,৬৭৭;আলবানী,সহীহুত তারগীব ২/১১৯; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৬
14

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৪

اَللّٰهُمَّ انِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْـبُخْلِ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ اَلْجُبْنِ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ اَنْ اُرَدَّ اِلٰۤى اَرْذَلِ اَلْعُمُرِ وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ اَلْقَبْرِ

উচ্চারণ আল্ল-াহুম্মা, ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল বুখ্লি ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাল জুব্নি ওয়া আ‘ঊযু বিকা আন উরাদ্দা ইলা- আরযালিল উমুরি ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনইয়া- ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাব্রি।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কাপুরুষতা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি অপমানকর অতি বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছান থেকে, (যে বয়সে মানুষ কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে), আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিতনা থেকে, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আযাব থেকে।
সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা) বলেন :
“রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যেক সালাতের পরে এ বাক্যগুলি বলতেন।”
[১]বুখারী(৬০-কিতাবুল জিহাদ,২৫-মা ইউতাআওআযু মিনাল জুবুন) ৩/১০৩৮,নং ২৬৬৭ (ভা ১/২৯৬),সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/৩৬৭ নং ৭৪৬,সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৭১,নং ২০২৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৭
15

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৫

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَاۤ اَخَّرْتُ وَمَاۤ اَسْرَرْتُ وَمَاۤ اَعْلَنْتُ وَمَاۤ اَسْرَفْتُ وَمَاۤ اَنْتَ اَعْلَمُ بِهٖ مِنِّىْۤ اَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَاَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মাগফিরলী মা- ক্বাদ্দামতু, ওয়ামা- আখখারতু, ওয়ামা- আসরারতু, ওয়া মা- আ‘অ্লানতু, ওয়ামা- আস্রাফতু, ওয়ামা- আনতা আ‘অ্লামু বিহী মিন্নী। আনতাল মুক্বাদ্দিমু, ওয়া আনতাল মুআখ্খিরু, লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমার জন্য ক্ষমা করুন আমি আগে যা করেছি এবং পরে যা করেছি, গোপনে যা করেছি এবং প্রকাশ্যে যা করেছি এবং বাড়াবাড়ি করে যা করেছি এবং যা আপনি আমার চেয়েও বেশি জানেন। আপনিই অগ্রবর্তী করেন, আপনিই পিছিয়ে দেন। আপনি ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই।
আলী (রা) বলেন :
“রাসূলুল্লাহ (স) তাশাহ্হূদের পরে সালামের আগে, দ্বিতীয় বর্ণনায়: সালাত শেষে সালামের পর এ কথাগুলো বলতেন।” দুটি বর্ণনাই সহীহ। সম্ভবত তিনি কখনো সালামের আগে ও কখনো পরে এ দু‘আটি পড়তেন।
[১]মুসলিম(৬-কিতাব সালাতিল মুসাফিরীন,২৬-বাবুদ্দুআ...) ১/৫৩৪-৫৩৫ (ভা ১/২৬৩);আবু দাঊদ(কিতাবুস সালাত,বাব মা ইউসতাফতাহু...) ১/১৯৯,নং ৭৬০ (ভা ১/১১১)সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/৩৬৬,সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৭২,ইবনুল আসীর,জামিউল উসূল ৪/২২৪;বাইহাকী,আস-সুনানুল কুবরা ২/৩২,১৮৫।আল্লামা আহমদ শাকিরের আলোচনা দেখুন,মুসনাদে আহমাদ (শাকির সম্পাদিত) ২/১০০ও ১৩৪,যাকারিয়্যা,আল-ইখবার পৃ. ৬০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৮
16

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৬

اَللّٰهُمَّ اَصْلِحْ لِيْ دِيْنِيَ الَّذِيْ جَعَلْتَهُ عِصْمَةَ اَمْرِيْ، وَاَصْلِحْ لِيْ دُنْيَايَ الَّتِيْ جَعَلْتَ فِيْهَا مَعَاشِيْ، اَللّٰهُمَّ اَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِعَفْوِكَ مِنْ نِقْمَتِكَ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ، اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَاۤ اَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, আস্বলি‘হ লী দীনিয়াল লাযী জা‘আল্তাহু ‘ইস্বমাতা আমরী। ওয়া আস্বলি‘হ লী দুন্ইয়া-ইয়াল্ লাতী জা‘আলতা ফীহা মা‘আ-শী। আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ‘ঊযু বি রিদা-কা মিন সাখাত্বিকা, ওয়াবি ‘আফ্বিকা মিন নাক্বামাতিকা, ওয়া আঊযু বিকা মিনকা। আল্লা-হুম্মা, লা- মা-নি‘আ লিমা- আ‘অ্ত্বাইতা, ওয়ালা- মু‘অ্ত্বিয়া লিমা মানা‘অ্তা, ওয়া লা- ইয়ানফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমার দ্বীনকে সংশোধিত-কল্যাণময় করুন, যাকে আপনি আমার রক্ষাকবজ বানিয়েছেন এবং আমার পার্থিব জীবনকে সংশোধিত করুন, যাতে আমার জীবন ও জীবিকা রেখেছেন। হে আল্লাহ, আমি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আপনার সন্তুষ্টির নিকট, আপনার শাস্তি থেকে আপনার ক্ষমার নিকট এবং আপনার থেকে আপনার নিকট আশ্্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেন তা ঠেকানোর কেউ নেই। এবং আপনি যা প্রদান না করেন তা প্রদান করার ক্ষমতাও কারো নেই। এবং কোনো পারিশ্রমকারীর পরিশ্রম আপনার ইচ্ছার বাইরে তার কোনো উপকারে লাগে না।
সুহাইব (রা) বলেন:
“রাসূলুল্লাহ (স) সালাত শেষ করার সময় এ দু‘আ বলতেন।”
হাদীসটির সনদ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য। একটি যয়ীফ সনদে বর্ণিত:
“রাসূলুল্লাহ (স) যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন জোরে শব্দ করে তাঁর সাহাবীগণকে শুনিয়ে এ দু‘আটি তিন বার পাঠ করতেন।
[১]সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৭৩,নং ২০২৬, মাওয়ারিদুয যামআন ২/২৫৯-১৬১,সহীহ ইবনু খুযাইমা ১/৩৬৬-৩৬৭,নাসাঈ,আমালুল ইয়াওম,আস-সুনানুল কুবরা ৬/৪০,যাকারিয়্যা,আল-ইখবার,৫৬। [২]তাবারানী,আল-মুজামুল আউসাত ৭/১৪২ নং ৭১০৬,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১১; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১০৯
17

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৭

اَللّٰهُمَّ بِكَ اُحَاوِلُ وَبِكَ اُقَاتِلُ وَبِكَ اُصَاوِلُ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা বিকা উ‘হা-বিলু, ওয়াবিকা উক্বা-তিলু, ওয়াবিকা উসা-বিলু।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমি আপনার সাহায্যেই চেষ্টা করি, আপনার সাহায্যেই যুদ্ধ করি এবং আপনার সাহায্যে বীরত্ব প্রদর্শন করি ও বিজয়ী হই।
সুহাইব (রা) বলেন :
“রাসূলুল্লাহ (স) যখন সালাত আদায় করতেন তখন তিনি ঠোঁট নাড়তেন বা বিড়বিড় করে কিছু বলতেন যা আমরা বুঝতাম না। তখন সাহাবীগণ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে, তিনি এ দু‘আটি পাঠ করেন।
অন্য বর্ণনায় :
“তিনি খাইবার বা হুনাইনের যুদ্ধের দিনগুলোতে ফজরের সালাতের পরে কিছু বলে তাঁর ঠোঁট নাড়াচ্ছিলেন।” সাহাবীগণ তাঁকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি জানান যে, তিনি এ দু‘আটি পাঠ করছেন।” হাদীসটি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের।
[১]সহীহ ইবনু হিব্বান ৫/৩৭৪,মুসনাদু আহমাদ ৪/৩৩২,৩৩৩,তাবারানী,কিতাবুদ দু'আ,পৃ.২১১; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১০
18

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৮

১০০ বার
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَتُبْ عَلَيَّ اِنَّكَ اَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيْم (اَلتَّوَّابُ الْغَفُوْرُ)

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মাগ্ফির লী, ওয়াতুব্ ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আন্তাত তাওয়া-বুর রাহীম (অন্য বর্ণনায়: [তাওয়াবুল গাফূর])
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমা করুন আমাকে, তাওবা কবুল করুন আমার; নিশ্চয় আপনি তাওবা-কবুলকারী করুণাময় (অন্য বর্ণনায়: তাওবা কবুলকারী ক্ষমাশীল)।
একজন আনসারী সাহাবী বলেন :
“আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে সালাতের পরে এ দু‘আ বলতে শুনেছি ১০০ বার।”
এ হাদীসের দ্বিতীয় বর্ণনায় বলা হয়েছে:
“রাসূলুল্লাহ (স) দোহার বা চাশতের [দু রাক’আত] সালাত আদায় করেন। এরপর এ দু‘আ ১০০ বার পাঠ করেন।
দুটি বর্ণনাই সহীহ। অন্তত ‘সালাতুদ দোহার’ পরে এ দু‘আটি ১০০ বার পাঠ করার বিষয়ে সকল যাকিরের মনোযোগী হওয়া উচিত।
[১]বুখারী,আল-আদাবুল মুফরাদ ১/২১৭,আলবানী সহীহুল আদাবিল মুফরাদ পৃ.২৩০-২৩২;মুসনাদ আহমাদ ২/৮৪,মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা ৬/৩৪,নাসাঈ,আস-সুনানুল কুবরা ৬/৩১-৩২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১১
19

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #১৯

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذُنُوْبِيْ وخَطَايَايَ كُلَّهَا اَللّٰهُمَّ انْعِشْنِيْ واجْبُرْنِيْ واهْدِنِيْ لِصَالِحِ الْاَعْمَالِ والْاَخْْلَاقِ فَاِنَّهٗ لَا يَهْدِيْ لِصَالِحِهَا ولَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا اِلَّاۤ اَنْتَ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মার্গ্ফিলী যুনূবী ওয়া খাত্বা-ইয়া-ইয়া কুল্লাহা, আল্লা-হুম্মা, আন‘ইশ্নী, ওয়াজবুরনী, ওয়াহদিনী লিস্বা-লি'হিল আ‘অ্মা-লি ওয়াল্ আখলা-ক, ইন্নাহু লা- ইয়াহদী লি স্বা-লি'হিহা-, ওয়ালা- ইয়াস্রিফু সাইয়িয়াহা ইল্লা- আনতা।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমার সকল ভুল ও গোনাহ ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করুন, আমাকে পূর্ণ করুন এবং আমাকে উত্তম কর্ম ও আচরণের তাওফীক প্রদান করুন ; কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ উত্তম কর্ম ও ব্যবহারের পথে নিতে পারে না বা খারাপ কর্ম ও আচরণ থেকে রক্ষা করতে পারে না।
আবু উমামা (রা) ও আবু আইয়ূব (রা) বলেন : “ফরয ও নফল যে কোনো সালাতে তোমাদের নবীর (স) কাছে যখনই গিয়েছি, তখনই শুনেছি তিনি সালাত শেষে ঘুরার বা উঠার সময় এ দু‘আটি বলেছেন।”
[১]তাবারানী,আল-মু'জামুল কাবীর,৮/২০০,২২৭;সাগীর ১/৩৬৫;নাবাবী,আল-আযকার,পৃ.১১৩;হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১১-১১২,১৭৩ হাইসামী হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য বলেছেন। [২] রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১২
2

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২

অংশ #1
একবার বলবে,
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।
বাংলা অনুবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

শব্দার্থ (Word by Word)

لَاۤ নাই (কোনো)
اِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ
اِلَّا ছাড়া
اللّٰهُ আল্লাহ
وَحْدَهٗ এবং তিনি এক
لَا নাই
شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার
لَهٗ، তাঁর
لَهُ তাঁরই
الْمُلْكُ রাজত্ব
وَلَهُ এবং তাঁর
الْحَمْدُ সমস্ত প্রশংসাও
وَهُوَ এবং তিনি
عَلٰى উপর
كُلِّ সকল
شَيْءٍ কিছুর
قَدِيْرٌ মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান

অংশ #2
তারপর,
اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَاۤ اَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যালজাদ্দি মিনকাল জাদ্দু
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি যা প্রদান করেছেন তা বন্ধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রুদ্ধ করেছেন তা প্রদান করার কেউ নেই। আর কোনো ক্ষমতা-প্রতিপত্তির অধিকারীর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি আপনার কাছে কোনো উপকারে আসবে না।

শব্দার্থ (Word by Word)

اَللّٰهُمَّ হে আল্লাহ,
لَا কেউ নেই
مَانِعَ আটকানোর
لِمَاۤ যা
اَعْطَيْتَ، আপনি প্রদান করেছেন
وَلَا এবং নেই
مُعْطِيَ কেউ প্রদান করার
لِمَا যা
مَنَعْتَ، আপনি বিরত রেখেছেন
وَلَا এবং না
يَنْفَعُ উপকারে আসবে
ذَا কোনো
الْجَدِّ ক্ষমতাশালীর
مِنْكَ আপনার কাছে
الْجَدُّ ক্ষমতা
বুখারী ১/২২৫, নং ৮৪৪; মুসলিম ১/৪১৪, নং ৫৯৩ আর দু ব্রাকেটের মাঝের অংশ বুখারীতে বর্ধিত এসেছে, নং ৬৪৭৩
20

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২০

اَللّٰهُمَّ اَصْلِحْ لِيْ دِيْنِيْ (اِغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ) وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, আস্ব্লি‘হ লী দ্বীনী, (ইগ্ফির লী যান্বী) ওয়া ওয়াস্সি‘য়্ লী ফী দা-রী ওয়া বা-রিক্ লী ফী রিযকী।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমার ধর্মজীবনকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে দিন, (আমার পাপ ক্ষমা করুন) আমার বাড়িকে প্রশস্ত করে দিন এবং আমার রিযিকে বরকত দান করুন।
আবু মূসা (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স)-কে ওযূর পানি এনে দিলাম। তখন তিনি ওযু করেন, সালাত আদায় করেন এবং তিনি এ দু‘আ পাঠ করেন। হাইসামী হাদীসটির সনদ সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।
[১]মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা ৬/৫০,মুসনাদু আবী ইয়ালা ১৩/২৫৭,নং ৭২৭৩,তাবারানী,আল-মুজামুস সাগীর ২/১৯৬।আল-মু'জামুল আউসাত ৭/৭৩,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১০৯; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১৩
21

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২১

اَللّٰهُمَّ رَبَّ جِبْرِيْلَ وَمِيْكَائِيْلَ وَاِسْرَافِيْلَ، اَعِذْنِيْ مِنْ حَرِّ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, রাব্বা জিবরীলা ওয়া মীকাঈলা ওয়া ইসরা-ফীলা, আ‘ইয্নী মিন র্হারিন না-রি ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাব্রি।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের প্রভু, আমাকে জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ ও কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।
আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সালাতের শেষে সর্বদা এ দু‘আ করতেন। হাইসামী ভাষ্যমতে হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য।
[১]মুসনাদ আহমাদ ৬/৬১,নাসাঈ,আস-সুনানুল কুবরা ৬/৪,তাবারানী,আল-মু'জামুল আউসাত ৪/১৫৬,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১০,যাকারিয়্যা,আল-ইখবার ফীমা লা ইয়াসিহুহু পৃ.৪৯-৫০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১৪
22

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২২

اَللّٰهُمَّ انِّيْۤ اَسْاَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهٖ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ اَعْلَمْ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهٖ مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ اَعْلَمْ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আস্আলুকা মিনাল খাইরি কুল্লিহী, মা- ‘আলিমতু মিনহু ওয়া মা- লা- আ‘অ্লাম। ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিনাশ শাররি কুল্লিহী, মা- ‘আলিমতু মিনহু ওয়া মা- লা- আ‘অ্লাম।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমার জানা ও অজানা সকল প্রকার কল্যাণ আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি। এবং আমার জানা ও অজানা সকল অকল্যাণ ও অমঙ্গল থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
জাবির ইবনু সামুরাহ (রা) বলেন, “আমি দেখলাম.... রাসূলুল্লাহ (স) সালাম ফেরানোর পরে এ দু‘আ বললেন।” হাদীসটির সনদ গ্রহণযোগ্য।
[১]তাবারানী,কিতাবুদ দু'আ পৃ.২০৮,আল-মুজামুল কাবীর ২/২৫২,সহীহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৭৪,সিলসিলাতুল আহাদিসিস সহীহাহ ৪/৫৬-৫৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১৫
23

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৩

﷽ قُلْ هُوَ اللّٰهُ اَحَدٌ‌ ۚ‏﴿١﴾ اَللّٰهُ الصَّمَدُ‌ ۚ‏﴿٢﴾ لَمْ يَلِدْ ۙوَلَمْ يُوْلَدْ ۙ‏﴿٣﴾ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿٤﴾‏‏ ‏

উচ্চারণ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ক্বুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
বাংলা অনুবাদ রহমান, রহীম আল্লাহর নামে। বলুন, তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ্ হচ্ছেন ‘সামাদ’ (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয় নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।
একটি অত্যন্ত যয়ীফ সনদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ঈমানসহ প্রত্যেক ফরয সালাতের পরেই ১০ বার সূরা ইখলাস (ক্বুল হুআল্লাহু আহাদ্ ... ) পাঠ করবে আল্লাহ তাঁকে অপরিমেয় পুরস্কার প্রদান করবেন।” তবে সহীহ হাদীসে মু’আয ইবনু আনাস (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ  বলেন:
“যে ব্যক্তি ১০ বার সূরা ইখলাস পাঠ করবে, আল্লাহ তাঁর জন্য জান্নাতে একটি বাড়ি বানিয়ে রাখবেন।” হাদীসটি সহীহ।
এ হাদীসে ১০ বার সূরাটি পাঠের কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য যাকির কোনো সময়ে এ ওযীফাটি পালন করতে পারেন।
[১]মুসনাদু আবি ইয়ালা ৩/৩৩২,নং ১৭৯৪,তাবারানী,আল-মুজামুল আউসাত ৪/৪৫-৪৬,নং ৩৩৬১,আবু নুআইম,হিলইয়াতুল আউলিয়া ৬/২৪৩,তাফসীর ইবন কাসীর ৪/৫৭০,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ৬/৩০১,১০/১০[২] [২]মুসনাদ আহমাদ ৩/৪৩৭; আলবানী,সহিহুল জামিয়িস সাগীর ২/১১০৪,নং ৬৪৭২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১৭
24

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৪

اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ اَنَا شَهِيْدٌ اَنَّكَ اَنْتَ الرَّبُّ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ اَنَا شَهِيْدٌ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ اَنَا شَهِيْدٌ اَنَّ الْعِبَادَ كُلَّهُمْ اِخْوَةٌ اللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ اِجْعَلْنِيْ مُخْلِصًا لَكَ وَاَهْلِيْ فِيْ كُلِّ سَاعَةٍ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ، اِسْمَعْ وَاسْتَجِبْ اَللّٰهُ اَكْبَرُ الْاَكْبَرُ اَللّٰهُمَّ نُوْرَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ (رَبَّ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ) اَللّٰهُ اَكْبَرُ الْاَكْبَرُ حَسْبِيَ اللّٰهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ اَللّٰهُ اَكْبَرُ الْاَكْبَرُ

বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ও সকল বস্তুর প্রভু, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আপনিই প্রভু। আপনি একক। আপনার কোনো শরীক নেই। হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ও সকল বস্তুর প্রভু, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, মুহাম্মাদ আপনার বান্দা এবং রাসূল। হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ও সকল বস্তুর প্রভু, আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, সকল বান্দা পরস্পর ভাই ভাই। হে আল্লাহ, আমাদের প্রভু ও সকল বস্তুর প্রভু, আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে দুনিয়া ও আখেরাতের প্রতিক্ষণে ও সকল মুহূর্তে আপনার জন্য মুখলিস ও আন্তরিক বানিয়ে দিন। হে মহাপরাক্রম ও সম্মানের অধিকারী, আপনি শুনুন এবং কবুল করুন। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। হে আল্লাহ, আসমান ও জমিনের আলো (অন্য বর্ণনায়: আসমান ও জমিনের প্রভু) আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ সর্বোত্তম উকিল। আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ।
হাদীসটির সনদ দুর্বল।
[১]আবু দাঊদ (কিতাবুস সালাত,বাব মা ইয়াকুলু...) ২/৮৪ (ভা ১/২১১); মুসনাদ আহমাদ ৪/৩৬৯; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১১৯
25

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৫

سُبْحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ‌ۚ‏ وَسَلٰمٌ عَلَى الْمُرْسَلِيْنَ‌ۚ‏ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ‌‏

বাংলা অনুবাদ পবিত্রতা আপনার প্রভুর, প্ররাক্রমের প্রভুর, তারা যা বলে তা থেকে (তিনি পবিত্র) এবং সালাম (শান্তি) প্রেরিত পুরুষগণের (রাসূলগণের) উপর এবং প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহর জন্য।
যয়ীফ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (স) কখনো কখনো সালাতের শেষে, সালামের পূর্বে বা পরে এ আয়াতগুলো (সূরা সাফ্ফাত ১৮০-১৮২) পাঠ করেছেন বা করতে উৎসাহ দিয়েছেন।
[১]মুসনাদ আবী ইয়ালা ২/৩৬৩,নং ১১১৮,তাবারানী,আল-মুজামুল কাবীর ৫/২১১,১১/১১৫,মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ১/২৬৯-২৭০,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ২/১৪৭-১৪৮,১০১০৩; মুনযিরী,আত-তারগীব ২/৪৪৯,নাবাবী,আযকার পৃ.১১৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২০
26

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৬

(اَشْهَدُ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ) بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَاۤ اِلٰهَ غَيْرُهُ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ اَللّٰهُمَّ اَذْهِبْ عَنِّيْۤ اَلْهَمَّ وَالْحَزَنَ

বাংলা অনুবাদ আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি পরম দয়ালু ও করুণাময়। হে আল্লাহ, আপনি আমার দুশ্চিন্তা ও বেদনা দূর করে দিন।
একটি অত্যন্ত দুর্বল সনদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) সালাত শেষ করার পরে তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর মাথা মুছতেন, অন্য বর্ণনায় তিনি ডান হাত দিয়ে তাঁর কপাল মুছতেন এবং এ দু‘আ পাঠ করতেন।
[১]তাবারানী,আল-মুজামুল আউসাত ৩/২৮৯,নং ৩১৭৮,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১০,নাবাবী,আল-আযকার,পৃ.১১৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২২
27

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৭

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَمَلٍ يُخْزِيْنِيْ، اَللّٰهُمَّ انِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ غِنًى يُطْغِيْنِيْ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ صَاحِبٍ يُرْدِيْنِيْ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ اَمَلٍ يُّلْهِيْنِيْ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ فَقْرٍ يُنْسِيْنِيْ.

বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এমন কর্ম থেকে যা আমাকে অপমানিত করবে। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এরূপ ধনাঢ্যতা থেকে যা আমাকে অহংকারী করে তুলবে। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এরূপ বন্ধু বা সঙ্গী থেকে যে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। হে আল্লাহ আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এরূপ সকল বিষয় থেকে যা আমাকে অপ্রয়োজনে ব্যস্ত করে তুলবে। হে আল্লাহ, আমি আপনার আশ্রয় চাচ্ছি এরূপ দারিদ্র্য থেকে যা আমাকে (আপনার কথা) ভুলিয়ে দেবে।
আনাস (রা) বলেন :
“রাসূলুল্লাহ (স) যখন সাহাবীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন তখন সালাত শেষে তাঁদের দিকে ঘুরে বসে এ দু‘আ বলতেন।” অন্য বর্ণনায় তিনি বলেন : “রাসূলুল্লাহ (স) যখনই কোনো ফরয সালাত পড়তেন, সালাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে এ দু‘আ পাঠ করতেন।” হাদীসটির সনদ কিছুটা দুর্বল।
[১]মুসনাদু আবী ইয়ালা ৭/৩১৩,নং ৪৩৫২,তাবারানী,কিতাবুদ দু'আ,পৃ. ২০৯,হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১০,যাকারিয়্যা,আল-ইখবার ফীমা লা ইয়াসিহুহু মিনাল আযকার পৃ.৬৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২৩
28

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৮

اَللّٰهُمَّ اَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِيْ وَاَسْتَهْدِيْكَ لِاَرْشَدِ اَمْرِيْ وَاَتُوْبُ اِلَيْكَ فَتُبْ عَلَيَّ اَللّٰهُمَّ اَنْتَ رَبِّيْ فَاجْعَلْ رَغْبَتِيْ اِلَيْكَ وَاجْعَلْ غِنَآئِيْ فِيْ صَدْرِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا رَزَقْتَنِيْ وَتَقَبَّلْ مِنِّيْۤ اِنَّكَ اَنْتَ رَبِّيْ

উচ্চারণ আল্লা-হুম্মা, আস্তাগ্ফিরুকা লিযামবি, ওয়া আসতাহ্দীকা লি আরশাদি আমরি, ওয়া আতূবু ইলাইকা, ফাতুব ‘আলাইয়্যা। আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বী, ফাজ্‘আল রাগ্বাতী ইলাইকা, ওয়াজ্‘আল গিনা-ঈ ফী স্বাদরী, ওয়া বা-রিক লী ফীমা- রাযাক্বতানী, ওয়া তাক্বাব্বাল মিন্নী। ইন্নাকা আনতা রাব্বী।
বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আমি আমার গোনাহের জন্য আপনার কাছে ক্ষমা (মাগফিরাত) প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করছি, আমি যেন সকল কাজে সর্বোত্তম কর্মটি বেছে নিতে পারি। আমি আপনার কাছে তাওবা করছি, আপনি আমার তাওবা কবুল করুন। হে আল্লাহ, আপনি আমার প্রভু, আপনি আমার চাওয়া পাওয়াকে আপনার-মুখী বানিয়ে দিন এবং আমার বক্ষের মধ্যে আমার সচ্ছলতা (অমুখাপেক্ষিতা) প্রদান করুন (আমার অন্তরকে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী বানিয়ে দিন), আপনি আমাকে যে রিযিক প্রদান করেছেন তাতে বরকত প্রদান করুন এবং আমার (কর্ম ও দু‘আ) কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি আমার প্রভু।
হাদীসটি সহীহ।
[১]মুসান্নাফ ইবনি আবী শাইবা ৬/৩৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২৪
29

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #২৯

بِحَمْدِ رَبِّىَ انْصَرَفْتُ وَبِذُنُوْبِىَ اعْتَرَفْتُ اَعُوْذُ بِرَبِّى مِنْ شَرِّ مَاۤ اَقْتَرَفْتُ يَا مُقَلِّبَ ٱلْقُلُوْبِ قَلِّبْ قَلْبِىْ عَلٰى مَا تُحِبُّ وَتَرْضٰى

বাংলা অনুবাদ আমার প্রভুর প্রশংসায় আমি সালাত শেষ করলাম। আমি আমার গোনাহসমূহের স্বীকারোক্তি করছি। আর আমি যে কর্ম করেছি তার অমঙ্গল ও অকল্যাণ থেকে আমি আমার প্রভুর আশ্রয় গ্রহণ করছি। হে মন পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে পরিবর্তন করুন সে বিষয়ের জন্য যা আপনি ভালবাসেন এবং যাতে আপনি খুশি হন।
[১]আব্দুর রাজ্জাক সান'আনী,আল-মুসান্নাফ ২/২৩৭-২৩৮; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২৫
3

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #৩

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللّٰهِ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ، وَلَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ، لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ، لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُوْنَ

উচ্চারণ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়ালা না‘বুদু ইল্লা ইয়্যাহু। লাহুন নি‘মাতু ওয়া লাহুল ফাদলু, ওয়া লাহুসসানাউল হাসান। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ-দীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরূন
বাংলা অনুবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি, নেয়ামতসমূহ তাঁরই, যাবতীয় অনুগ্রহও তাঁর এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই। আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, আমরা তাঁর দেয়া দ্বীনকে একনিষ্ঠভাবে মান্য করি, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে

শব্দার্থ (Word by Word)

لَاۤ নাই (কোনো)
اِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ
اِلَّا ছাড়া
اللّٰهُ আল্লাহ
وَحْدَهٗ তিনি এক
لَا নাই
شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার
لَهٗ، তাঁর
لَهُ তাঁরই
الْمُلْكُ، রাজত্ব
وَلَهُ এবং তাঁর
الْحَمْدُ، সমস্ত প্রশংসাও
وَهُوَ এবং তিনি
عَلٰى উপর
كُلِّ সকল
شَيْءٍ কিছুর
قَدِيْرٌ، মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান
لَا নেই (কোনো)
حَوْلَ সামর্থ্য/ক্ষমতা
وَلَا এবং নেই
قُوَّةَ শক্তি
اِلَّا ব্যতীত
بِاللّٰهِ، আল্লাহ
لَاۤ নাই (কোনো)
اِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ
اِلَّا ছাড়া
اللّٰهُ، আল্লাহ
وَلَا এবং না
نَعْبُدُ আমরা ইবাদত করি
اِلَّا ছাড়া
اِيَّاهُ، শুধু তাঁকে
لَهُ তাঁরই
النِّعْمَةُ নেয়ামতসমূহ
وَلَهُ এবং তাঁর
الْفَضْلُ যাবতীয় অনুগ্রহ
وَلَهُ এবং তাঁরই
الثَّنَاءُ প্রশংসা
الْحَسَنُ، উত্তম
لَاۤ নাই
اِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ
اِلَّا ছাড়া
اللّٰهُ আল্লাহ
مُخْلِصِيْنَ একনিষ্ঠভাবে (মান্য করি )
لَهُ তাঁর
الدِّيْنَ ধর্ম/জীবনব্যবস্থাকে
وَلَوْ যদিও
كَرِهَ অপছন্দ করে
الْكَافِرُوْنَ কাফেররা
মুসলিম ১/৪১৫, নং ৫৯৪
30

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #৩০

অংশ #1
ফজরের পরে ও আসরের পরে,

১০০ বার
سُبْحَانَ اللّٰهِ

উচ্চারণ সুবহা-নাল্লাহ
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ অতি-পবিত্র
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা একশতটি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার চেয়ে উত্তম। এ দু সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০ টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করা থেকে উত্তম। এ দু সময়ে ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়ে উত্তম। আর যদি কেউ সূর্যাস্তের আগে এবং সূর্যোদয়ের আগে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করে তবে সে দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এ যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) তিরমিযীর বর্ণনায়: যদি কেউ এ দু সময়ে ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে তবে সে যেন ইসমাঈল বংশের একশত ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো।” ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্য মুুহাদ্দিস হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলে উল্লেখ করেছেন।

অংশ #2
১০০ বার
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ

উচ্চারণ আলহামদুলিল্লা-হ
বাংলা অনুবাদ সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য

অংশ #3
১০০ বার
اَللّٰهُ اَكْبَرُ

উচ্চারণ আল্লা-হু আকবার
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ অতি-মহান

অংশ #4
১০০ বার
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়া‘হদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়া লাহুল ‘হামদ, ওয়া হুআ ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।

অংশ #5
অথবা ১০০ বার
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ

উচ্চারণ লা- ইলা-হা ইল্লাল্লা-হ
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে ১০০ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা একশতটি উট আল্লাহর ওয়াস্তে দান করার চেয়ে উত্তম। এ দু সময়ে ১০০ বার ‘আল-হামদু লিল্লাহ’ বলা আল্লাহর পথে জিহাদের জন্য ১০০ টি ঘোড়ার পিঠে মুজাহিদ প্রেরণ করা থেকে উত্তম। এ দু সময়ে ১০০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলা ১০০টি ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়ে উত্তম। আর যদি কেউ সূর্যাস্তের আগে এবং সূর্যোদয়ের আগে ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুআ আলা কুল্লি শাইয়্যিন কাদীর’ ১০০ বার পাঠ করে তবে সে দিনে তার চেয়ে বেশি আমল আর কেউ করতে পারবে না। তবে যদি কেউ তার সমান এ যিকরগুলো পাঠ করে বা তার চেয়ে বেশি পাঠ করে তাহলে ভিন্ন কথা। (তাহলে সেই শুধু তার উপরে উঠতে পারবে।) তিরমিযীর বর্ণনায়: যদি কেউ এ দু সময়ে ১০০ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলে তবে সে যেন ইসমাঈল বংশের একশত ব্যক্তিকে দাসত্ব থেকে মুক্তি প্রদান করলো।” ইমাম তিরমিযী ও অন্যান্য মুুহাদ্দিস হাদীসটিকে ‘হাসান’ বলে উল্লেখ করেছেন।
[১]তিরমিযী (৪৯-কিতাবুদ্দাওয়াত,৬২-বাব...)৫/৪৮০, নং ৩৪৭১ (ভা ২/১৮৫);নাসাঈ,আস-সুনানুল কুবরা ৬/২০৫,আলবানী,সহীহুত তারগীব ১/৩৪৩ (শামিলা ১/১৬০); রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২৬
31

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #৩১

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمْرِيْۤ اٰخِرَهٗ وَخَيْرَ عَمَلِيْ خَوَاتِمَهٗ، وخَيْرَ اَيَّامِيْ يَوْمَ اَلْقَاكَ

বাংলা অনুবাদ হে আল্লাহ, আপনি আমার শেষ জীবনকে আমার জীবনের সর্বোত্তম অংশ, আমার শেষ কর্মগুলোকে জীবনের সর্বোত্তম কর্ম এবং যে দিন আমি আপনার সাক্ষাৎ করব সে দিনটিকে আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন করে দিন।
আনাস (রা) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (স) -এর ঠিক পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি সালামের পরে এ কথাগুলো বলতেন। হাদীসটির সনদ যয়ীফ।
তবে সাধারণ দুআ হিসেবে এ বাক্যগুলো অন্য সনদে বর্ণিত। ইমাম হাইসামীর ব্যাখ্যায় সনদটি গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান। কাজেই মুমিন এ দুআটি সালাতের পরে ও অন্যান্য সকল সময়ে পাঠ করতে পারেন।
[১]তাবারানী,আল-মু'জামুল আউসাত ৯/১৫৭,১৭২,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১০,নাবাবী,আল-আযকার,পৃ.১১৩,যাকারিয়্যা,আল-ইখবার ফীমা লা ইয়াসিহুহু মিনাল আযকার,পৃ.৫৭। [২]তাছাড়া একাধিক সনদে বর্ণিত হওয়ায় গ্রহণযোগ্যতা বৃ্দ্ধি পায়।হাইসামী,মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/২৪২-২৪৩; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১২২
7

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #৭

মাগরিব ও ফজরের নামাযের পর ১০ বার করে পড়বে,
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হাম্‌দু ইয়ুহ্‌য়ী ওয়াইয়ূমীতু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর
বাংলা অনুবাদ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তারই এবং সকল প্রশংসা তাঁর। তিনিই জীবিত করেন এবং মৃত্যু দান করেন। আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান

শব্দার্থ (Word by Word)

لَاۤ নাই (কোনো)
اِلٰهَ মাবুদ/ইলাহ
اِلَّا ছাড়া
اللّٰهُ আল্লাহ
وَحْدَهٗ এবং তিনি এক
لَا নাই
شَرِيْكَ শরীক/অংশীদার
لَهٗ، তাঁর
لَهُ তাঁরই
الْمُلْكُ রাজত্ব
وَلَهُ ও তাঁর
الْحَمْدُ সমস্ত প্রশংসাও
يُحْيِيْ তিনিই জীবিত করেন
وَيُمِيْتُ এবং মৃত্যু দান করেন
وَهُوَ এবং তিনি
عَلٰى উপর
كُلِّ সকল
شَيْءٍ কিছুর
قَدِيْرٌ মহাপ্রতাপশালী/ক্ষমতাবান
তিরমিযী ৫/৫১৫, নং ৩৪৭৪; আহমাদ ৪/২২৭, নং ১৭৯৯০। হাদীসটির তাখরীজের জন্য আরও দেখুন, যাদুল মা‘আদ ১/৩০০।
9

সালাম ফিরানোর পর যিকরসমূহ #৯

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهْوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ، اَللّٰهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا اَعْطَيْتَ، وَلَا مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ، وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

উচ্চারণ লা- ইলা-হা ইল্লল্লা-হু, ওয়া‘হদাহু লা- শারীকা লাহু, লাহুল মুলক, ওয়া লাহুল ‘হামদ, ওয়া হুআ ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লা-হুম্মা, লা- মা-নি‘আ লিমা- আ‘অ্ত্বাইতা, ওয়ালা- মু‘অ্ত্বিয়া লিমা- মানা‘অ্তা, ওয়ালা- ইয়ান্ফা‘উ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।
বাংলা অনুবাদ আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনি যা দান করেন তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারো নেই। আর আপনি যা না দেন তা দেওয়ার ক্ষমতাও কারো নেই। কোনো ভাগ্যবানের ভাগ্য বা পরিশ্রমীর পরিশ্রম আপনার ইচ্ছার বাইরে কোনো উপকারে লাগে না।
মুগীরা ইবনু শু'বা (রা) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) প্রত্যেক ফরয সালাতে সালামের পরে বলতেনঃ।
বুখারী (১৬-কিতাব সিফাতিস সালাত, ৭১-বাবুয যিকরি বাদাস সালাত) ১/২৮৯ (ভারতীয় ১/২১৮); মুসলিম (৫-কিতাবুল মাসাজিদ, ২৬-বাব ইসতিহবাবিয যিকর) ১/৪১৪-৪১৫ (ভারতীয় ১/২১৮); রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৯৯