ক্যাটাগরি সমূহ
সালাত
মাসনূন সালাত
1
মাসনূন সালাত #১
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা সাল্লি- ‘আলা- মুহাম্মাদিন, ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ওয়া সাল্লি- ‘আলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-ত, ওয়াল মুসলিমীন ওয়াল মুসলিমা-ত।
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ, আপনি সালাত প্রেরণ করুন আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর, এবং সালাত প্রেরণ করুন সকল মুমিন পুরুষ, মুমিন নারী, মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীর উপর।
আবু সাঈদ খুদরী (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন :
“কোনো মুসলিমের কাছে যদি দান করার কিছুই না থাকে তবে তার উচিত দু‘আর মধ্যে এ কথাগুলো (সালাতটি) বলা; তাহলে এ সালাত তাঁর জন্য যাকাত স্বরূপ গণ্য হবে (সে দান করার সাওয়াব অর্জন করবে)।”
হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও, তা অনুধাবনযোগ্য এবং সাখাবী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
“কোনো মুসলিমের কাছে যদি দান করার কিছুই না থাকে তবে তার উচিত দু‘আর মধ্যে এ কথাগুলো (সালাতটি) বলা; তাহলে এ সালাত তাঁর জন্য যাকাত স্বরূপ গণ্য হবে (সে দান করার সাওয়াব অর্জন করবে)।”
হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও, তা অনুধাবনযোগ্য এবং সাখাবী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
আলবানী, যয়ীফুল আদাবিল মুফরাদ ৬৩ পৃ. নং ১০০/৬৪০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১২৭; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩০
2
মাসনূন সালাত #২
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ
আল¬া-হুম্মা, স্বালি¬ ‘আলা- মুহাম্মাদিন, ওয়া আনযিলহুল মাক্ব‘আদাল মুর্ক্বারাবা ‘ইনদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ মুহাম্মাদের উপর সালাত (দরুদ) প্রেরণ করুন এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন আপনার নৈকট্যপ্রাপ্ত অবস্থানে অবতীর্ণ করুন।
রুআইফি বিন সাবিত আনসারী (রা) বলেন: রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি উপরের কথাগুলো (সালাতটি) বলবে, তার জন্য আমার শাফায়াত পাওনা হবে।” হাদীসটির সনদে একজন দুর্বল রাবী রয়েছেন, তবে আল্লামা হায়সামী ও মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। [১]
অন্য হাদীসে ইবনু মাস’ঊদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন:
“কিয়ামতের দিন মানুষদের মধ্য থেকে সে ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী (আমার শাফায়তের সবচেয়ে বেশি হকদার) হবে, যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে।” হাদীসটি হাসান। [২] অন্য একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বলা হয়েছে :
“যদি কেউ দিনে ১ হাজার বার আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে তাহলে জান্নাতে তাঁর অবস্থান স্থল না দেখে তাঁর মৃত্যু হবে না (মৃত্যুর পূর্বেই তার জান্নাতের ঘর দেখার সৌভাগ্য হবে)।” হাদীসটির সনদ দুর্বল। [৩]
অন্য হাদীসে সামুরা বিন জুনদুব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ব বলেছেন:
“আমি গত রাতে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম (তাঁর স্বপ্নও ওহী), আমি দেখলাম আমার উম্মতের এক ব্যক্তি পুল-সিরাতের উপর বুকে হেটে চলেছে, কখনো বা হামাগুড়ি দিচ্ছে, কখনো বা ঝুলে পড়ছে, এমতাবস্থায় আমার উপর পাঠকৃত তার সালাত এসে তাকে সোজাভাবে সিরাতের উপর সোজা দু’পায়ে দাঁড় করিয়ে দিল এবং তাকে উদ্ধার করল।”
ইবনুল কাইয়েম ও সাখাবীর আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও তা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বা আলোচনাযোগ্য। [৪]
“যে ব্যক্তি উপরের কথাগুলো (সালাতটি) বলবে, তার জন্য আমার শাফায়াত পাওনা হবে।” হাদীসটির সনদে একজন দুর্বল রাবী রয়েছেন, তবে আল্লামা হায়সামী ও মুনযিরী হাদীসটিকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। [১]
অন্য হাদীসে ইবনু মাস’ঊদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন:
“কিয়ামতের দিন মানুষদের মধ্য থেকে সে ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী (আমার শাফায়তের সবচেয়ে বেশি হকদার) হবে, যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে।” হাদীসটি হাসান। [২] অন্য একটি দুর্বল সনদের হাদীসে বলা হয়েছে :
“যদি কেউ দিনে ১ হাজার বার আমার উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করে তাহলে জান্নাতে তাঁর অবস্থান স্থল না দেখে তাঁর মৃত্যু হবে না (মৃত্যুর পূর্বেই তার জান্নাতের ঘর দেখার সৌভাগ্য হবে)।” হাদীসটির সনদ দুর্বল। [৩]
অন্য হাদীসে সামুরা বিন জুনদুব (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ব বলেছেন:
“আমি গত রাতে একটি অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম (তাঁর স্বপ্নও ওহী), আমি দেখলাম আমার উম্মতের এক ব্যক্তি পুল-সিরাতের উপর বুকে হেটে চলেছে, কখনো বা হামাগুড়ি দিচ্ছে, কখনো বা ঝুলে পড়ছে, এমতাবস্থায় আমার উপর পাঠকৃত তার সালাত এসে তাকে সোজাভাবে সিরাতের উপর সোজা দু’পায়ে দাঁড় করিয়ে দিল এবং তাকে উদ্ধার করল।”
ইবনুল কাইয়েম ও সাখাবীর আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, হাদীসটির সনদে দুর্বলতা থাকলেও তা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বা আলোচনাযোগ্য। [৪]
[১] মুসনাদে আহমাদ ২/৩৫২, তাবারানী, আল-মু'জামুল কাবীর ৫/২৫-২৬; আল-মু'জামুল আউসাত ৩/৪৫৬, নং ৩২৯৭, হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৬৩; মুনযিরী, আত-তারগীব ২/৫০২-৫০৩ [২] তিরমিযী ২/৩৫৪, নং ৪৮৪ (ভা ১/১১০); সাখাবী , আল-কাউলুল বাদী, পৃ. ১৩০-১৩১; আলবানী, সহীহুত তারগীব ২/১৩৬ [৩] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ৩০, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৬ [৪] ইবনুল কাইয়েম, জালাউল আউহাম, পৃ. ২৩৫, সাখাবী, আল-কাউলুল বাদী পৃ. ১২৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩১
3
মাসনূন সালাত #৩
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِك وَنَبِيِّك وَرَسُوْلِكَ النَّبِيِّ الْاُمِّيِّ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি- ‘আলা- মু‘হাম্মাদিন ‘আব্দিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া রাসূলিকান নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি।
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ, আপনি সালাত দিন মুহাম্মাদের উপরে আপনার বান্দা এবং আপনার নবীএবং আপনার রাসূল উম্মী নবী।
আবূ হুরাইরা (রা) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন:
যদি কেউ শুক্রবারে আমার উপর আশি বার সালাত পাঠ করে তবে তার আশি বছরের পাপ ক্ষমা করা হবে। আমি বললাম: কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করতে হবে? তিনি বলেন... উপরের সালাতটি।
হাদীসটি খতীব বাগদাদী ওয়াহব ইবনু দাঊদ নামক এক ব্যক্তির সূত্রে উদ্ধৃত করে বলেন, লোকটি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল এবং আলবানী হাদীসটিকে জাল বলে গণ্য করেছেন। এ অর্থে আরেকটি হাদীস দারাকুতনী সংকলন করেছেন। দারাকুতনীর হাদীসে জুমুআর দিনে আশি বার সালাত পাঠে আশি বছরের পাপ ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, তবে এ হাদীসে সালাতের বাক্যটি নেই। দারাকুতনীর হাদীসটিকে ইমাম ইরাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাসান বলে গণ্য করেছেন। অন্যরা একে যয়ীফ বা দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো গ্রন্থে এ সালাতের শেষে (وسَلِّم تَسْلِيْماً كَثٍيْراً) ‘ওয়া সাল্লি-ম তাসলীমান কাসীরান..’ সংযোজিত। এ অতিরিক্ত সংযোজিত বাক্যটির কোনো সনদ আমি খুঁজে পাই নি।
যদি কেউ শুক্রবারে আমার উপর আশি বার সালাত পাঠ করে তবে তার আশি বছরের পাপ ক্ষমা করা হবে। আমি বললাম: কিভাবে আপনার উপর সালাত পাঠ করতে হবে? তিনি বলেন... উপরের সালাতটি।
হাদীসটি খতীব বাগদাদী ওয়াহব ইবনু দাঊদ নামক এক ব্যক্তির সূত্রে উদ্ধৃত করে বলেন, লোকটি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল এবং আলবানী হাদীসটিকে জাল বলে গণ্য করেছেন। এ অর্থে আরেকটি হাদীস দারাকুতনী সংকলন করেছেন। দারাকুতনীর হাদীসে জুমুআর দিনে আশি বার সালাত পাঠে আশি বছরের পাপ ক্ষমার কথা বলা হয়েছে, তবে এ হাদীসে সালাতের বাক্যটি নেই। দারাকুতনীর হাদীসটিকে ইমাম ইরাকী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস হাসান বলে গণ্য করেছেন। অন্যরা একে যয়ীফ বা দুর্বল বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো কোনো গ্রন্থে এ সালাতের শেষে (وسَلِّم تَسْلِيْماً كَثٍيْراً) ‘ওয়া সাল্লি-ম তাসলীমান কাসীরান..’ সংযোজিত। এ অতিরিক্ত সংযোজিত বাক্যটির কোনো সনদ আমি খুঁজে পাই নি।
খতীব, বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/৪৮৯; ইবনুল জাওযী, আল-ইলালুল মুতানাহিয়্যাহ ১/৪৬৪; ইরাকী, তাখরীজ আহাদীসি ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, ২/৪৯; ইবনু আররাক, তানযীহুশ শারীয়াহ ২/৪০৬; আজালূনী, কাশফুল খাফা ১/১৬৭; আলবানী, যায়ীফাহ ১/৩৮২; ৮/২৭৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ৩২