ক্যাটাগরি সমূহ

দোয়া

অজ্ঞতা বশতঃ ভুলের ক্ষমা ও সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা - দায়িত্ব থেকে মুক্তি চাওয়া [২:২৮৬]

১

অজ্ঞতা বশতঃ ভুলের ক্ষমা ও সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা - দায়িত্ব থেকে মুক্তি চাওয়া [২:২৮৬]

رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ اِنْ نَّسِيْنَآ اَوْ اَخْطَاْنَا ‌ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَآ اِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلٰى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِنَا ‌‌ۚرَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهٖ‌ ۚوَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكٰفِرِيْنَ

উচ্চারণ রব্বানা- লা-তুআ-খিয্না য় ইন্নাসী য় না-আও আখ্ত্বোয়ানা-, রব্বানা- অলা-তাহ্মিল্ ‘আলাইনায় ইছরান কামা-হামাল্তাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিনা-, রব্বানা- অলা-তুহাম্মিল্না- মা-লা-ত্বোয়া-ক্বাতা লানা-বিহ্;অ’ফু ‘আন্না-অর্গ্ফি লানা- র্অহাম্না- আন্তা মাওলা-না- ফান্ছুরনা- ‘আলাল্ ক্বাওমিল্ কা-ফিরীন্
বাংলা অনুবাদ হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের উপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সমপ্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।

শব্দার্থ (Word by Word)

رَبَّنَا হে আমাদের রব
لَا না
تُؤَاخِذْنَآ আমাদেরকে পাকড়াও করো
اِنْ যদি
نَّسِيْنَآ আমরা ভুলে যাই
اَوْ বা
اَخْطَاْنَا ‌ۚ আমরা ভুল করি
رَبَّنَا হে আমাদের রব
وَلَا এবং না
تَحْمِلْ চাপিয়ে দিও
عَلَيْنَآ আমাদের উপর
اِصْرًا বোঝা
كَمَا যেমন
حَمَلْتَهٗ তা তুমি চাপিয়ে দিয়েছিলে
عَلٰى উপর
الَّذِيْنَ (তাদের) যারা
مِنْ থেকে
قَبْلِنَا আমাদের পূর্ব ছিল
‌‌ۚرَبَّنَا হে আমাদের রব
وَلَا এবং না
تُحَمِّلْنَا আমাদের উপর চাপিয়ে দিও
مَا তা
لَا নেই
طَاقَةَ শক্তি
لَنَا আমাদের কাছে
بِهٖ‌ যার
ۚوَاعْفُ এবং মোচন করে দাও (ত্রুটি)
عَنَّا আমাদের থেকে
وَاغْفِرْ এবং ক্ষমা করো
لَنَا আমাদেরকে
وَارْحَمْنَا এবং আমাদের উপর দয়া করো
اَنْتَ তুমিই
مَوْلٰىنَا আমাদের অভিভাবক
فَانْصُرْنَا আমাদের সাহায্য কর তাই
عَلَى বিরুদ্ধে
الْقَوْمِ সম্প্রদায়ের
الْكٰفِرِيْنَ (যারা) কাফির
সহীহ হাদীস থেকে জানা যায়-আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, একদিন জিবরীল (আ.) নবী (সা.)-এর কাছে বসা ছিলেন। সেই সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচন্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হলো-ইতিপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসলেন। আজকের এই দিনের আগে তিনি আর কখনো পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেন, আপনি আপনাকে দেওয়া দুটি নূর বা আলোর সুসংবাদ গ্রহন করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর এই দুইটি নূর হলো ফাতিহাতুল কিতাব বা সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। এর যে কোন হরফ আপনি পড়বেন। তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে-(সহীহ মুসলিম-৩য় খন্ড,আল-কুরআনের মর্যাদা অধ্যায়, হাদীস নং-১৭৫৪)। ফলে এ দু'আ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ(সা.)-কে প্রদানকৃত দু'টি বিশেষ নূরের মধ্যকার একটি নূরের অংশ বিশেষ। এ দু'আ শেষে 'আমীন' বললে প্রার্থিত বিষয়গুলো কবুল করা হয় বলেও হাদীসে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও সহীহ হাদীসে রয়েছে-আবু মাসউদ আল-আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন: যে ব্যাক্তি রাতে সূরা আল বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলওয়াত করবে তা তার সে রাতের জন্যে যথেষ্ট হবে - (সহীহ আল-বুখারী-৪র্থ খন্ড, কিতাবু ফাযায়েল কুরআন-কুরআনের ফযীলত অধ্যায়, হাদীস নং-২৮১৭)। অন্য সহীহ হাদীস-নোমান ইবনে বশীর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ আসমান যমীন সৃষ্টির দুই হাজার বছর পূর্বে একটি কিতাব লিখেছেন। সেই কিতাব থেকে দুটি আয়াত নাযিল করা হয়েছে। সেই দুইটি আয়াতের মাধ্যেমেই সূরা আল বাকারা সমাপ্ত করা হয়েছে। যে ঘরে তিন রাত এ দুইটি আয়াত তিলওয়াত করা হয় শয়তান সেই ঘরের কাছে আসতে পারে না - (জামে আত-তিরমিযী-৫ম খন্ড, আবওয়াবু ফাদাইলিল কুরআন-কুরআনের ফযীলত অধ্যায়, হাদীস নং-২৮১৮)
সূরা আল বাকারাহ - ২:২৮৬