ক্যাটাগরি সমূহ
দোয়া
ঘুমানোর যিক্রসমূহ
10
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১০
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا، وَاٰوَانَا، فَكَمْ مِّمَّنْ لَّا كَافِيَ لَهٗ وَلَا مُؤْوِيَ
উচ্চারণ
আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত‘আমানা, ওয়া সাক্বা-না, ওয়া কাফা-না, ওয়া আ-ওয়ানা, ফাকাম্ মিম্মান লা কা-ফিয়া লাহু, ওয়ালা মু’উইয়া
বাংলা অনুবাদ
সকল প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাদেরকে আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন। কেননা, এমন বহু লোক আছে যাদের প্রয়োজনপূর্ণকারী কেউ নেই এবং যাদের আশ্রয়দানকারীও কেউ নেই।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَلْحَمْدُ
সকল প্রশংসা
لِلّٰهِ
আল্লাহ্র জন্য
الَّذِيْ
যিনি
اَطْعَمَنَا
আমাদেরকে আহার করিয়েছেন
وَسَقَانَا،
এবং আমাদের পান করিয়েছেন
وَكَفَانَا،
এবং আমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করেছেন
وَاٰوَانَا،
এবং আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন
فَكَمْ
কেননা বহু (লোক আছে)
مِّمَّنْ
যাদের থেকে
لَّا
কেউ নেই
كَافِيَ
প্রয়োজনপূর্ণকারী
لَهٗ
তাঁর
وَلَا
এবং কেউ নেই
مُؤْوِيَ
আশ্রয়দানকারী
মুসলিম ৪/২০৮৫, নং ২৭১৫।
11
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১১
اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْاَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَّمَلِيْكَهٗ، اَشْهَدُ اَنْ لَّآ اِلٰهَ اِلَّآ اَنْتَ، اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطانِ وَشِرْكِهٖ، وَاَنْ اَقْتَرِفَ عَلٰى نَفْسِيْ سُوْۤءًا، اَوْ اَجُرَّهٗٓ اِلٰى مُسْلِمٍ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা ‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি, ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, রাব্বা কুল্লি শাই’ইন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আনতা, আ‘উযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়ামিন শাররিশ শাইত্বা-নী ওয়াশিরকিহী, ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা নাফসী সূ’আন আউ আজুররাহু ইলা মুসলিম
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ! হে গায়েব ও উপস্থিতের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব্ব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শির্ক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ!
عَالِمَ
জ্ঞানী
الْغَيْبِ
গায়েব/অদৃশ্যের
وَالشَّهَادَةِ
ও দৃশ্যমান বিষয়/উপস্থিতের
فَاطِرَ
স্রষ্টা
السَّمَاوَاتِ
আসমানসমূহ
وَالْاَرْضِ،
ও যমীনের
رَبَّ
রব্ব
كُلِّ
সব
شَيْءٍ
কিছুর
وَّمَلِيْكَهٗ،
ও তার মালিক
اَشْهَدُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি
اَنْ
যে
لَّآ
নাই (কোনো)
اِلٰهَ
মাবুদ/ইলাহ
اِلَّآ
ছাড়া
اَنْتَ،
আপনি
اَعُوْذُ
আমি আশ্রয় চাই
بِكَ
আপনার কাছে
مِنْ
থেকে
شَرِّ
অনিষ্ট
نَفْسِيْ،
আমার আত্মা/মনের
وَمِنْ
এবং থেকে
شَرِّ
অনিষ্টতা
الشَّيْطانِ
শয়তানের
وَشِرْكِهٖ،
ও তার শির্ক/অংশীদারিত্বের
وَاَنْ
এবং যে
اَقْتَرِفَ
করা (থেকে)
عَلٰى
উপর
نَفْسِيْ
নিজের/আত্মার
سُوْۤءًا،
কোনো অনিষ্ট
اَوْ
অথবা
اَجُرَّهٗٓ
সম্পাদন/পরিচালিত করা (থেকে)
اِلٰى
দিকে
مُسْلِمٍ
কোনো মুসলিমের
আবূ দাউদ, ৪/৩১৭, নং ৫০৬৭; তিরমিযী, নং ৩৬২৯; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪২
12
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১২
জাবির (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা মুলক (67:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না।
আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা বানী ইসরাঈল (17:1) ও সূরা যুমার (39:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না।
অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা যুমার (39:1) পাঠ করতেন। হাদীসগুলো সহীহ।
আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) সূরা বানী ইসরাঈল (17:1) ও সূরা যুমার (39:1) তিলাওয়াত না করে ঘুমাতেন না।
অন্য হাদীসে আয়েশা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) প্রত্যেক রাতে সূরা সাজদাহ (32:1) ও সূরা যুমার (39:1) পাঠ করতেন। হাদীসগুলো সহীহ।
শব্দার্থ (Word by Word)
তিরমিযী, নং ৩৪০৪; নাসাঈ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, নং ৭০৭। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৪/২৫৫।
15
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১৫
اَللّٰهُمَّ اَمْتِعْنِيْ بِسَمْعِيْ وَبَصَرِيْ وَاجْعَلْهُمَا الْوَارِثَ مِنِّيْ اَللّٰهُمَّ انْصُرْنِيْ عَلٰى عَدُوِّيْ وَاَرِنِيْ فِيْهِ ثَاْرِيْ، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْٓ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ، وَمِنَ الْجُوْعِ فَاِنَّهُ بِئْسَ الضَّجِيْعُ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা, আমতি‘অ্নী বিসমা‘ঈ, ওয়াবাসারী, ওয়াজ্-‘আলহুমাল ওয়া-রিসা মিন্নী। আল্লা-হুমান্-সুরনী ‘আলা- ‘আদুও্ঈ, ওয়া আরিনী ফীহি সা’রী। আল্লা-হুম্মা, ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন গালাবাতিদ দাইনি, ওয়া মিনাল জূ’ই, ফাইন্নাহু বি‘সাদ্দ্বাজী‘য়।
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ, আমরণ আমার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ ও নিরাপদ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে আমার শত্র“র বিরুদ্ধে সাহায্য করুন এবং তার জুলুমের প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমাকে দেখান। হে আল্লাহ, আমি ঋণের বোঝা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং ক্ষুধা থেকে ; নিশ্চয় ক্ষুধা অত্যন্ত নিকৃষ্ট সঙ্গী।
এ কথাগুলো বলে রাসূলুল্লাহ (স) বিভিন্ন সময়ে মুনাজাত করতেন বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম নববী একটি বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিছানায় শয়ন করার পরেও এ মুনাজাতটি বলতেন।
মুুসতাদরাক হাকিম ২/১৫৪, সহীহহুল জামিয়িস সাগীর ১/২৭২, নাবাবী, আল-আযকার, পৃ. ১৪২; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৪
16
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১৬
اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ الَّتِىْ لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ، وَلَا فَاجِرٌ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَذَرَاَ وَبَرَاَ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاۤءِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَعْرُجُ فِيْهَا، وَمِنْ شَرِّ مَا ذَرَاَ فِىْ الْاَرْضِ، وَمِنْ شَرِّ مَا يَخْرُجُ مِنْهَا، وَمِنْ شَرِّ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ طَارِقٍ اِلَّا طَارِقًا يَطْرُقُ بِخَيْرٍ يَّا رَحْمٰنُ
উচ্চারণ
আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লাহিত তাম্মা-তিল্লাতী লা- ইউজাওিযুহুন্না র্বারুন ওয়ালা- ফা-জির, মিন র্শারি মা- খালাক্কা ওয়া যারাআ ওয়া বারাআ, ওয়া মিন র্শারি মা ইয়ানযিলু মিনাস সামা-য়ি ওয়া মিন র্শারি মা ইয়া‘অরুজু ফীহা-, ওয়া মিন র্শারি মা যারাআ ফিল আরদ্বি, ওয়া মিন র্শারি মা ইয়া‘খরুজু মিন্হা-, ওয়া মিন র্শারিল্লাইলি ওয়ান নাহা-রি, ওয়া মিন র্শারি কুল্লি ত্বা-রিক্কিন ইল্লা- ত্বারিক্কান ইয়াত্বরুক্কু বিখাইরিন ইয়া- রা‘হমা-ন।
বাংলা অনুবাদ
আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যাবলির, যেগুলোকে অতিক্রম করতে পারে না কোনো পুণ্যবান বা কোনো পাপী, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, বানিয়েছেন ও ছড়িয়ে দিয়েছেন তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমান থেকে অবতরণ করে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিনে সৃষ্ট-ছড়ানো তার অনিষ্ট থেকে, যা কিছু যমিন থেকে বের হয় তার অনিষ্ট থেকে, রাত ও দিনের অনিষ্ট থেকে এবং সকল আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে, শুধু যে আগন্তুক কল্যাণ-সহ আগমন করে সে ব্যতীত, হে মহা-দয়াময়।
আব্দুর রাহমান ইবন খানবাশ (রা) বলেন, “এক রাতে শয়তান জিনগণ আগুন নিয়ে মরুপ্রান্তরে রাসূলুল্লাহ (স)-কে আক্রমন করতে এগিয়ে আসে। তখন জিবরাঈল (আ) এসে তাঁকে এ দুআটি শিখিয়ে দেন। দুআটি পাঠের সাথে সাথে শয়তানদের আগুন নিভে যায় এবং তারা পালিয়ে যায়।” অন্য হাদীসে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রা) বলেন, “আমি রাতে প্রচণ্ড আতঙ্কিত হতাম, এমনকি তরবারি নিয়ে ছুটতাম এবং যা পেতাম তাতেই আঘাত করতাম। রাসূলুল্লাহ (স)-কে এ কথা জানালে তিনি বলেন: আমাকে জিবরাঈল যে দুআ শিখিয়েছেন আমি তোমাকে তা শিখিয়ে দিচ্ছি। (উপরের দুআটির অনুরূপ)।” হাদীসটি সহীহ।
আহমাদ, আল-মুসনাদ (আরনউত সম্পাদিত) ৩/৪১৯; আবূ ইয়ালা, আল-মুসনাদ (আসাদ সম্পাদিত) ১২/২৩৭; তাবারানী, আল-মু'জামুল আউসাত ৫/৩১৫; আলবানী, সহীহাহ; মুখতাসারাহ (শামিলা) ২/৪৯৫, ৭/১৯৬; সহীহুত তারগীব ২/১২০; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৫
17
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #১৭
بِسْمِ اللّٰهِ وَضَعْتُ جَنْبِىْ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ ذَنْبِىْ وَاَخْسِئْ شَيْطَانِىْ وَفُكَّ رِهَانِىْ وَاجْعَلْنِىْ فِىْ النَّدِىِّ الَاعْلٰى
উচ্চারণ
বিস্মিল্লাহি ওয়াদ্বা‘অ্তু জানবী। আল্লা-হুম্মা‘র্গ্ফি লী যানবী, ওয়া আ‘খ্সিঅ্ শাইত্বা-নী, ওয়া ফুক্কা রিহা-নী, ওয়াজ্‘আল্নী ফিন্ নাদিইয়িল আ‘অ্লা।
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহর নামে আমি আমার দেহ (বিছানায়) রাখলাম। হে আল্লাহ আপনি ক্ষমা করুন আমার পাপ, লাঞ্ছিত-অক্ষম করুন আমার শয়তানকে, মুক্ত করুন আমাকে আমার বাঁধন থেকে এবং আমাকে সর্বোচ্চ পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করে দিন।
আবুল আযহার আনমারী (রা) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (স) রাতে যখন বিছানায় শয়ন করতেন তখন এ কথাগুলো বলতেন।” হাদীসটি সহীহ।
আবূ দাউদ (কিতাবুল আদাব, বাব মা ইউকালু ইনদান নাওম) ৪/৩১৪-৩১৫, নং ৫০৫৪ (ভা ২/৬৮৯); আলবানী, সহীহ ওয়া যয়ীফ আবী দাউদ ১১/৫৪; রাহে বেলায়াত - যিকর নং ১৬৮
4
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৪
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ‘তোমাদের কোনো ব্যক্তি তার বিছানা ত্যাগ করলো, আবার ঘুমাতে ফিরে এলো সে যেন তার চাদর বা লুঙ্গির আঁচল দিয়ে তিনবার বিছানাটি ঝেড়ে নেয়। আর যেন সে বিসমিল্লাহ পড়ে, (আল্লাহর নাম নেয়); কেননা সে জানে না যে, তার চলে যাবার পর এতে কী পতিত হয়েছে।
তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন এ দো‘আটি বলে,
তারপর সে যখন শোয়, তখন যেন এ দো‘আটি বলে,
بِاسْمِكَ رَبِّيْ وَضَعْتُ جَنْبِيْ، وَبِكَ اَرْفَعُهُ، فَاِنْ اَمْسَكْتَ نَفْسِيْ فارْحَمْهَا، وَاِنْ اَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا، بِمَا تَحْفَظُ بِهِ عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ
উচ্চারণ
বিইসমিকারব্বী ওয়াদা‘তু জাম্বী, ওয়া বিকা আরফা‘উহু। ফাইন্ আম্সাক্তা নাফ্সী ফারহামহা, ওয়াইন আরসালতাহা ফাহ্ফায্হা বিমা তাহ্ফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস সা-লিহীন
বাংলা অনুবাদ
আমার রব! আপনার নামে আমি আমার পার্শ্বদেশ রেখেছি (শুয়েছি) এবং আপনারই নাম নিয়ে আমি তা উঠাবো। যদি আপনি (ঘুমন্ত অবস্থায়) আমার প্রাণ আটকে রাখেন, তবে আপনি তাকে দয়া করুন। আর যদি আপনি তা ফেরত পাঠিয়ে দেন, তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন যেভাবে আপনি আপনার সৎকর্মশীল বান্দাগণকে হেফাযত করে থাকেন।
শব্দার্থ (Word by Word)
بِاسْمِكَ
আপনার নামে নিয়ে
رَبِّيْ
হে আমার রব
وَضَعْتُ
রেখেছি (শুয়েছি)
جَنْبِيْ،
আমার পার্শ্বদেশ
وَبِكَ
এবং আপনার নিকট
اَرْفَعُهُ،
আমি তা উঠাবো
فَاِنْ
এবং যদি
اَمْسَكْتَ
আটকে রাখেন
نَفْسِيْ
আমার প্রাণ
فارْحَمْهَا،
তবে তাকে দয়া করুন
وَاِنْ
এবং যদি
اَرْسَلْتَهَا
তাহলে তা ফেরত/প্রেরণ করেন
فَاحْفَظْهَا،
তার হেফাযত করুন
بِمَا
যেভাবে
تَحْفَظُ
হেফাযত করে থাকেন
بِهِ
এর সাথে
عِبَادَكَ
আপনার বান্দাগণ
الصَّالِحِيْنَ
সৎকর্মশীল
বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/১২৬, নং ৬৩২০; মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১[৪] হাদীসে বর্ণিত صنفة إزاره শব্দের অর্থ হচ্ছে, চাদরের পার্শ্বদিকস্থ অংশ। এর জন্য দেখুন, নিহায়া ফী গারিবিল হাদীস ওয়াল আসার’ ‘صنف’
5
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৫
اَللّٰهُمَّ اِنَّكَ خَلَقْتَ نَفْسِيْ وَاَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، اِنْ اَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا، وَاِنْ اَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا، اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْاَلُكَ الْعَافِيَةَ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা খালাক্তা নাফসী ওয়া আন্তা তাওয়াফ্ফাহা। লাকা মামা-তুহা ওয়া মাহ্ইয়া-হা। ইন্ আহ্ইয়াইতাহা ফাহ্ফায্হা ওয়াইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল ‘আ-ফিয়াতা
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আমার আত্মাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটাবেন। তার মৃত্যু ও তার জীবন আপনার মালিকানায়। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখেন তাহলে আপনি তার হেফাযত করুন, আর যদি তার মৃত্যু ঘটান তবে তাকে মাফ করে দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নিরাপত্তা চাই।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
اِنَّكَ
নিশ্চয় আপনি
خَلَقْتَ
সৃষ্টি করেছেন
نَفْسِيْ
আমার জীবন/আত্মাকে
وَاَنْتَ
এবং আপনি
تَوَفَّاهَا،
তার মৃত্যু ঘটাবেন
لَكَ
আপনার জন্য
مَمَاتُهَا
তার মৃত্যু
وَمَحْيَاهَا،
এবং তার জীবন
اِنْ
যদি
اَحْيَيْتَهَا
তাকে বাঁচিয়ে রাখেন
فَاحْفَظْهَا،
তবে তার হেফাযত করুন
وَاِنْ
এবং যদি
اَمَتَّهَا
তার মৃত্যু ঘটান
فَاغْفِرْ
তবে মাফ করে দিন
لَهَا،
তাকে
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
اِنِّيْۤ
নিশ্চয় আমি
اَسْاَلُكَ
আপনার কাছে চাই
الْعَافِيَةَ
নিরাপত্তা
মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১২; আহমাদ, তাঁর শব্দে ২/৭৯, নং ৫৫০২
6
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৬
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন তখন তাঁর ডান হাত তাঁর গালের নীচে রাখতেন, তারপর এ দো‘আটি বলতেন:
اَللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা ক্বিনী ‘আযা-বাকা ইয়াওমা তাব‘আছু ‘ইবা-দাকা
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ! আমাকে আপনার আযাব থেকে রক্ষা করুন, যেদিন আপনি আপনার বান্দাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
قِنِيْ
আমাকে রক্ষা করুন
عَذَابَكَ
আপনার আযাব থেকে
يَوْمَ
সেদিন
تَبْعَثُ
পুনর্জীবিত করবেন
عِبَادَكَ
আপনার বান্দাদেরকে
আবূ দাউদ, শব্দ তাঁরই, ৪/৩১১, নং ৫০৪৫; তিরমিযী, নং ৩৩৯৮; আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪৩; সহীহ আবী দাঊদ, ৩/২৪০।
7
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৭
بِاسْمِكَ اَللّٰهُمَّ اَمُوْتُ وَاَحْيَا
উচ্চারণ
বিস্মিকাল্লা-হুম্মা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ ! আপনার নাম নিয়েই আমি মরছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো।
শব্দার্থ (Word by Word)
بِاسْمِكَ
আপনার নাম নিয়ে
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
اَمُوْتُ
আমি মারা যাবো (ঘুমাবো)
وَاَحْيَا
এবং আমি জীবিত (জাগ্রত) হবো
বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ১১/১১৩, নং ৬৩২৪; মুসলিম ৪/২০৮৩, নং ২৭১১
8
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৮
অংশ #1
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রা:) এবং ফাতেমাকে (রা:) বলেন:
“আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে ৩৩ বার
“আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না যা তোমাদের জন্য খাদেম অপেক্ষাও উত্তম হবে? যখন তোমরা তোমাদের বিছানায় যাবে, তখন তোমরা দু’জনে ৩৩ বার
سُبْحَانَ اللّٰهِ
উচ্চারণ
সুবহা-নাল্লাহ
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ অতি-পবিত্র
শব্দার্থ (Word by Word)
سُبْحَانَ
পবিত্রতা ঘোষণা করছি
اللّٰهِ
আল্লাহর
অংশ #2
৩৩ বার
وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ
উচ্চারণ
আলহামদুলিল্লা-হ
বাংলা অনুবাদ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য
শব্দার্থ (Word by Word)
وَالْحَمْدُ
এবং সকল প্রশংসা
لِلّٰهِ
আল্লাহর জন্য
অংশ #3
৩৪ বার
وَاللّٰهُ اَكْبَرُ
উচ্চারণ
আল্লা-হু আকবার
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ অতি-মহান
শব্দার্থ (Word by Word)
وَاللّٰهُ
এবং আল্লাহ
اَكْبَرُ
সর্বশ্রেষ্ঠ
...বলবে, যা তা খাদেম অপেক্ষাও তোমাদের জন্য উত্তম হবে’’।
বুখারী, (ফাতহুল বারীসহ) ৭/৭১, নং ৩৭০৫; মুসলিম ৪/২০৯১, নং ২৭২৬।
9
ঘুমানোর যিক্রসমূহ #৯
অংশ #1
اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبَّ الْاَرْضِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ، فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوٰى، وَمُنْزِلَ التَّوْرَاةِ وَالْاِنْجِيْلِ، وَالْفُرْقَانِ، اَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْءٍ اَنْتَ اٰخِذٌ بِنَاصِيَتِهِ،
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা রব্বাস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব‘ই ওয়া রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, রব্বনা ওয়া রব্বা কুল্লি শাই’ইন্, ফা-লিক্বাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত্-তাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল ফুরক্বা-ন, আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাই’ইন্ আনতা আ-খিযুম-বিনা-সিয়াতিহি।
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ! হে সপ্ত আকাশের রব্ব, যমিনের রব্ব, মহান ‘আরশের রব্ব, আমাদের রব্ব ও প্রত্যেক বস্তুর রব্ব, হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, হে তাওরাত, ইনজীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি প্রত্যেক এমন বস্তুর অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি, যার (মাথার) অগ্রভাগ আপনি ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
رَبَّ
রব্ব
السَّمَاوَاتِ
আকাশের
السَّبْعِ
সপ্ত
وَرَبَّ
এবং রব্ব
الْاَرْضِ،
যমিনের
وَرَبَّ
এবং রব্ব
الْعَرْشِ
আরশের
الْعَظِيْمِ،
মহান
رَبَّنَا
হে আমাদের রব্ব
وَرَبَّ
ও রব্ব
كُلِّ
প্রত্যেক
شَيْءٍ،
বস্তুর
فَالِقَ
বিদীর্ণকারী
الْحَبِّ
শস্য-বীজের
وَالنَّوٰى،
এবং আঁটি/বীচি
وَمُنْزِلَ
এবং অবতীর্নকারী
التَّوْرَاةِ
তাওরাত
وَالْاِنْجِيْلِ،
ও ইনজীল
وَالْفُرْقَانِ،
এবং কুরআন
اَعُوْذُ
আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি
بِكَ
আপনার নিকট
مِنْ
থেকে
شَرِّ
অনিষ্ট
كُلِّ
প্রত্যেক
شَيْءٍ
বস্তুর
اَنْتَ
আপনি
اٰخِذٌ
ধরে রেখেছেন (নিয়ন্ত্রণ করছেন)
بِنَاصِيَتِهِ،
তার (মাথার) অগ্রভাগ
অংশ #2
اَللّٰهُمَّ اَنْتَ الْاَوَّلُ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَاَنْتَ الْاٰخِرُ فَلَيسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَاَنْتَ الظَّاهِرُ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَاَنْتَ الْبَاطِنُ فَلَيْسَ دُوْنَكَ شَيْءٌ، اِقْضِ عَنَّا الدَّيْنَ وَاَغْنِنَا مِنَ الْفَقْرِ
উচ্চারণ
আল্লা-হুম্মা আনতাল আউওয়ালু ফালাইসা ক্বাবলাকা শাইউন। ওয়া আনতাল আ-খিরু ফালাইসা বা‘দাকা শাইউন। ওয়া আনতায যা-হিরু ফালাইসা ফাওক্বাকা শাইউন। ওয়া আনতাল বা-ত্বিনু ফালাইসা দূনাকা শাইউন। ইক্বদ্বি ‘আন্নাদ্-দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল ফাক্বরি
বাংলা অনুবাদ
হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছুই ছিল না; আপনি সর্বশেষ, আপনার পরে কোনো কিছু থাকবে না; আপনি সব কিছুর উপরে, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাবগ্রস্ততা থেকে অভাবমুক্ত করুন।
শব্দার্থ (Word by Word)
اَللّٰهُمَّ
হে আল্লাহ
اَنْتَ
আপনিই
الْاَوَّلُ
প্রথম
فَلَيْسَ
অতএব না (ছিল)
قَبْلَكَ
আপনার পূর্বে
شَيْءٌ،
কিছুই
وَاَنْتَ
এবং আপনি
الْاٰخِرُ
সর্বশেষ
فَلَيسَ
অতএব না (থাকবে)
بَعْدَكَ
আপনার পরে
شَيْءٌ،
কোনো কিছু
وَاَنْتَ
এবং আপনি
الظَّاهِرُ
প্রকাশ্য/স্পষ্ট
فَلَيْسَ
অতএব নাই
فَوْقَكَ
আপনার উর্ধ্বে
شَيْءٌ،
কোনো কিছু
وَاَنْتَ
এবং আপনি
الْبَاطِنُ
অপ্রকাশ্য/গোপন
فَلَيْسَ
অতএব নাই
دُوْنَكَ
আপনার নিম্নে
شَيْءٌ،
কোনো কিছু
اِقْضِ
পরিশোধ/ব্যবস্থা করে দিন
عَنَّا
আমাদের থেকে
الدَّيْنَ
ঋণ
وَاَغْنِنَا
এবং আমাদেরকে অভাবমুক্ত করুন
مِنَ
থেকে
الْفَقْرِ
অভাবগ্রস্ততা/দারিদ্রতা
মুসলিম ৪/২০৮৪, নং ২৭১৩